ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা সরণির মূলসড়কের পরিবর্তে সার্ভিস রোডে বিআরটিসি বাস চলাচলের দাবি

Oplus_131072

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ) : পূর্বাচলের শেখ হাসিনা সরণির কুড়িল বিশ্বরোড-ভুলতা গাউছিয়া রোডের মূলসড়কের পরিবর্তে পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোডে বিআরটিসি আর্টিকুলেটেড বাস চলাচলের দাবি জানিয়েছে যাত্রীরা। মূলসড়কে চলাচলকারী বাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা উঠা-নামা করছে। বড় কোন দুর্ঘটনার পূর্বেই মূলসড়কের পরিবর্তে পার্শ্বসড়ক দিয়ে অভ্যন্তরিণ যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দাবিও জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিসি আর্টিকুলেটেড বাস পূর্বাচলের তিনশ’ ফুট সড়ক নামে পরিচিত শেখ হাসিনা সরণির পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড দিয়ে চলাচল করে আসছিলো। গত কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের সদস্যরা সার্ভিস রোডের পাশ থেকে মূলসড়কের পাশে টিকিট কাউন্টার স্থাপন করে। তাতে সার্ভিস রোড পার হয়ে টিকিট কাউন্টারে যেতে শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রী, মহিলা ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীরা সার্ভিস রোড পার হয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয় করছেন। কেউবা বাসে উঠছেন। আবার কেউবা বাস থেকে নামছেন। বাসে উঠার আগে পার্শ্বসড়ক পার হয়ে কাউন্টারে আসতে হচ্ছে । বাস থেকে নামার পরে যাত্রীরা পার্শ্বসড়ক পার হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। এ সমস্যায় বাধ্য হয়ে উল্টো পথে রিক্সা ও অটো রিক্সা চলাচল করছে।
শেখ হাসিনা সরণির জলসিঁড়ি, ল্যাংটার মাজার, শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও মস্তুল এলাকায় মূলসড়কের পাশে বিআরটিসি বাসের টিকিট কাউন্টার রয়েছে। এই চার স্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড পার হয়ে মূল সড়কে এসে বাসে উঠেন।
বিআরটিসির ট্রাফিক ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা সরণিতে কোন গতি রোধক নেই। সিগনালবিহীন এ সড়কের পথে নেই কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা। চৌদ্দ লেনের এ সড়কের মাঝখানে চার লেন করে আসা যাওয়ার জন্য আট লেনের মূল সড়ক রয়েছে। দুই পাশে আরো তিন লেন করে ছয় লেনের পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড রয়েছে। মূলসড়কের গাড়ি খুব দ্রæত চলাচল করে। আর তিন লেনের পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড পার হয়ে যাত্রীদের বিআরটিসির বাস কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয় করে বাসে উঠা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মূলসড়কের পরিবর্তে পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোডে যাত্রীবাহী অভ্যন্তরিণ পরিবহন চলাচল করা প্রয়োজন।
বিআরটিসি বাস যাত্রী পূর্বাচলের বাঘবের গ্রামের হারুনুর রশিদ বলেন, জলসিঁড়ি চৌরাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে অটোরিক্সা স্ট্যান্ড রয়েছে। এখানে বাসের টিকিট কাউন্টার ও বাস স্ট্যান্ড স্থাপন করলে যাত্রীরা সহজেই বাসে উঠা-নামা করতে পারবে।
এ ব্যাপারে কুড়িল বিশ্বরোড-ভুলতা-গাউছিয়া সড়কের বিআরটিসি বাস পরিচালনা সহায়তাকারী মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, রাজউক চেয়ারম্যান, ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের মহাপরিচালক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, রাজউকের প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোন সুফল হয় নি।
শেখ হাসিনা সরণিতে দায়িত্বরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, শেখ হাসিনা সরণির মূল সড়কের উভয় পাশে প্রয়োজনীয় স্থানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। এই যাত্রী ছাউনির যথাযথ ব্যবহার এবং রোদ বৃষ্টি থেকে নিরাপদে থাকার জন্য যাত্রী ছাউনির পাশেই বিআরটিসি বাসের টিকিট কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। তবে পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড পার হয়ে যাত্রীদের বাসে উঠা-নামা সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি অবশ্যই কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি নদীপাড়ে আতঙ্ক বিরাজ

শেখ হাসিনা সরণির মূলসড়কের পরিবর্তে সার্ভিস রোডে বিআরটিসি বাস চলাচলের দাবি

Update Time : ১২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ) : পূর্বাচলের শেখ হাসিনা সরণির কুড়িল বিশ্বরোড-ভুলতা গাউছিয়া রোডের মূলসড়কের পরিবর্তে পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোডে বিআরটিসি আর্টিকুলেটেড বাস চলাচলের দাবি জানিয়েছে যাত্রীরা। মূলসড়কে চলাচলকারী বাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা উঠা-নামা করছে। বড় কোন দুর্ঘটনার পূর্বেই মূলসড়কের পরিবর্তে পার্শ্বসড়ক দিয়ে অভ্যন্তরিণ যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দাবিও জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিসি আর্টিকুলেটেড বাস পূর্বাচলের তিনশ’ ফুট সড়ক নামে পরিচিত শেখ হাসিনা সরণির পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড দিয়ে চলাচল করে আসছিলো। গত কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের সদস্যরা সার্ভিস রোডের পাশ থেকে মূলসড়কের পাশে টিকিট কাউন্টার স্থাপন করে। তাতে সার্ভিস রোড পার হয়ে টিকিট কাউন্টারে যেতে শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রী, মহিলা ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীরা সার্ভিস রোড পার হয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয় করছেন। কেউবা বাসে উঠছেন। আবার কেউবা বাস থেকে নামছেন। বাসে উঠার আগে পার্শ্বসড়ক পার হয়ে কাউন্টারে আসতে হচ্ছে । বাস থেকে নামার পরে যাত্রীরা পার্শ্বসড়ক পার হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। এ সমস্যায় বাধ্য হয়ে উল্টো পথে রিক্সা ও অটো রিক্সা চলাচল করছে।
শেখ হাসিনা সরণির জলসিঁড়ি, ল্যাংটার মাজার, শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও মস্তুল এলাকায় মূলসড়কের পাশে বিআরটিসি বাসের টিকিট কাউন্টার রয়েছে। এই চার স্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড পার হয়ে মূল সড়কে এসে বাসে উঠেন।
বিআরটিসির ট্রাফিক ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা সরণিতে কোন গতি রোধক নেই। সিগনালবিহীন এ সড়কের পথে নেই কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা। চৌদ্দ লেনের এ সড়কের মাঝখানে চার লেন করে আসা যাওয়ার জন্য আট লেনের মূল সড়ক রয়েছে। দুই পাশে আরো তিন লেন করে ছয় লেনের পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড রয়েছে। মূলসড়কের গাড়ি খুব দ্রæত চলাচল করে। আর তিন লেনের পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড পার হয়ে যাত্রীদের বিআরটিসির বাস কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয় করে বাসে উঠা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মূলসড়কের পরিবর্তে পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোডে যাত্রীবাহী অভ্যন্তরিণ পরিবহন চলাচল করা প্রয়োজন।
বিআরটিসি বাস যাত্রী পূর্বাচলের বাঘবের গ্রামের হারুনুর রশিদ বলেন, জলসিঁড়ি চৌরাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে অটোরিক্সা স্ট্যান্ড রয়েছে। এখানে বাসের টিকিট কাউন্টার ও বাস স্ট্যান্ড স্থাপন করলে যাত্রীরা সহজেই বাসে উঠা-নামা করতে পারবে।
এ ব্যাপারে কুড়িল বিশ্বরোড-ভুলতা-গাউছিয়া সড়কের বিআরটিসি বাস পরিচালনা সহায়তাকারী মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, রাজউক চেয়ারম্যান, ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের মহাপরিচালক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, রাজউকের প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোন সুফল হয় নি।
শেখ হাসিনা সরণিতে দায়িত্বরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, শেখ হাসিনা সরণির মূল সড়কের উভয় পাশে প্রয়োজনীয় স্থানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। এই যাত্রী ছাউনির যথাযথ ব্যবহার এবং রোদ বৃষ্টি থেকে নিরাপদে থাকার জন্য যাত্রী ছাউনির পাশেই বিআরটিসি বাসের টিকিট কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। তবে পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড পার হয়ে যাত্রীদের বাসে উঠা-নামা সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি অবশ্যই কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন।